ইফতার সেহরি

সময় যখন কথা বলে

সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম ও ফজিলত

ইসলাম ধর্মে নফল ইবাদতের মধ্যে কিছু বিশেষ নামাজ রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি এবং নিজেদের গুনাহ মাফের বিশেষ সুযোগ তৈরি করতে পারি। তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ নামাজ হলো সালাতুল তাসবিহ। অনেকেই এই নামাজ সম্পর্কে জানতে চান—এটি কী, কীভাবে পড়তে হয়, এর ফজিলত কী এবং কখন আদায় করা উত্তম। তাই এখানে আমরা সহজ ও সাবলীল ভাষায় বিস্তারিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরছি।

সালাতুল তাসবিহ নামাজ কী?

সালাতুল তাসবিহ হলো একটি বিশেষ নফল নামাজ, যাতে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বারবার একটি তাসবিহ পড়া হয়। এই তাসবিহটি হলো:

“সুবহানাল্লাহি, ওয়াল হামদুলিল্লাহি, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার”

এই নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করে এবং নিজের গুনাহের ক্ষমা প্রার্থনা করে।

সালাতুল তাসবিহ নামাজ সুন্নত নাকি নফল?

এ নামাজ নিয়ে আলেমদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও অধিকাংশের মতে এটি নফল নামাজ।
অর্থাৎ, এটি ফরজ বা ওয়াজিব নয়—কিন্তু আদায় করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায় এবং না পড়লে গুনাহ হবে না।

সালাতুল তাসবিহ নামাজ কখন পড়তে হয়?

এই নামাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় বাধ্যতামূলক নয়। তবে কিছু উত্তম সময় হলো—

– রাতে (বিশেষ করে তাহাজ্জুদের সময়)
– জুমার দিন
– রমজান মাসে
– যেকোনো অবসর সময়ে (নিষিদ্ধ সময় ছাড়া)

নিষিদ্ধ সময় (যেমন সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত, ঠিক দুপুর) এড়িয়ে যেকোনো সময় পড়া যায়।

সালাতুল তাসবিহ নামাজের নিয়ম

এই নামাজ সাধারণত ৪ রাকাত পড়তে হয়। এক সালামে বা দুই সালামে পড়া যায়।

প্রতিটি রাকাতে মোট ৭৫ বার তাসবিহ পড়তে হয়, অর্থাৎ ৪ রাকাতে মোট ৩০০ বার।

এক রাকাতে তাসবিহ পড়ার ধাপ:

. সানা পড়ার পর → ১৫ বার
২. সূরা ফাতিহা + অন্য সূরা শেষে → ১০ বার
৩. রুকুতে → ১০ বার
৪. রুকু থেকে দাঁড়িয়ে → ১০ বার
৫. প্রথম সিজদায় → ১০ বার
৬. দুই সিজদার মাঝে → ১০ বার
৭. দ্বিতীয় সিজদায় → ১০ বার

মোট = ৭৫ বার (প্রতি রাকাতে)

সালাতুল তাসবিহ নামাজের ফজিলত

এই নামাজের অনেক বড় ফজিলত রয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে—

– অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহ মাফ হয়ে যায়
– ছোট-বড়, গোপন-প্রকাশ্য সব গুনাহ ক্ষমা করা হয়
– আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায়
– অন্তরে প্রশান্তি আসে

রাসূল (সা.) তাঁর চাচা হযরত আব্বাস (রা.)-কে এই নামাজ পড়তে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং বলেছেন, সম্ভব হলে প্রতিদিন, না পারলে সপ্তাহে, না পারলে মাসে, না পারলে বছরে অন্তত একবার পড়তে।

 কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

– ধীরে সুস্থে মনোযোগ দিয়ে নামাজ পড়ুন
– তাসবিহ গুনে পড়ার জন্য আঙুল ব্যবহার করতে পারেন
– ভুল হলে নামাজ ভেঙে ফেলতে হবে না, যতটা সম্ভব ঠিক করে নিন
– নিয়মিত পড়া সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝে পড়ার চেষ্টা করুন

উপসংহার

সালাতুল তাসবিহ নামাজ এমন একটি ইবাদত, যা আমাদের গুনাহ মাফের জন্য বিশেষ সুযোগ এনে দেয়। এটি ফরজ না হলেও এর গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই সুযোগ পেলেই এই নামাজ আদায় করার চেষ্টা করা উচিত।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নফল ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *